Welcome, Guest   [ Register | Sign In | Take a tour | Adult Filter: On ]

বইমেলা নেই, হতাশ কলকাতা

কেউ যদি প্রশ্ন করেন মানুষ কেন কাঁদে? উত্তর হবে - মানুষ দুঃখ পায় বলে কাঁদে৷ আর মানুষ কখন দুঃখ পায়? মানুষ দুঃখ পায়, যখন মানুষ কাছের লোককে হারিয়ে ফেলে৷ এই সময় একটা প্রশ্নই মনের অলিতে-গলিতে উঁকি দেয়৷ কেন? কেন? এমন হয়? -'কলকাতা বইমেলা'-র আঙিকে এই কথাটা খুবই প্রাসঙ্গিক৷ হাইকোর্টের রায় বেরোনোর সঙ্গে সঙ্গেই অনেকেই কেমন একটা থ মেরে গেছেন৷ যদি বইমেলা নিয়ে বুদ্ধিজীবি মার্কা তকমা হটিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে কলকাতা বইমেলার বিভিন্ন রূপ ফুটে উঠবে৷ বইমেলা কারুর কাছে নিখাদ আড্ডার জায়গা, কারুর কাছে সন্ধ্যেবেলার রোমান্স তো কারুর কাছে প্রিয়তমা খুঁজে বেরানোর জায়গা৷

কিন্তু হল কি? নানাবর্তে এবারে সেটাই মাটি৷ রইল ময়দান, রইল পার্ক সার্কাস, পায়ে ওড়া ধূলো, রয়ে গেল অসংখ্য বই আর বইপ্রেমী৷ কিন্তু সবকিছু থাকলেও বইমেলা রইল না৷ আমাদের পশ্চিমবাংলাকে নিন্দুকেরা কটাক্ষ করে বলেন "নেইরাজ্য"৷ এবারে আরেকটা নেই যোগ হল- বইমেলা৷

সাধারন বইপ্রেমী তো বটেই, খুশী নেই কলকাতার নামজাদা ব্যক্তিত্বরা৷ তাঁরাও হতাশ৷ ভীষণ হতাশ৷ কোথায় যেন পরম বন্ধু হারিয়ে গেছে...


শেখর বসু (সাহিত্যিক): বইমেলা করার যে বৈধ নিয়ম তা পালন করেনি গিল্ড৷ কেননা যেখানে এবার বইমেলা হবার কথা ছিল, সেখানে হসপিটাল রয়েছে৷ স্কুল রয়েছে৷ বইমেলা হলে শব্দ দূষণ হতই৷ গিল্ড দমকলের ব্যবস্থা ঠিক মত করে নি৷ এমনকি কলকাতা কর্পোরেশন যে অনুমতি দিয়েছিল তা ছিল "এডহক পারমিশন"৷ " ফাইনাল পারমিশন ছিল না৷" পুরো বিষয়টাই গিল্ড বুঝতে পারেনি৷ সল্টলেকে করলে কি ক্ষতি হত বুঝতে পারলাম না৷ বইমেলা না হওয়াটা একটা ধাক্কা৷ শুরুর বছরগুলো থেকে বইমেলা যেতাম৷ এবারে যেতে পারব না৷ গিল্ডের উচিত ছিল আরও অরগানাইশ হওয়া৷

আবদুর রাউফ( চিন্তাবিদ): খুবই দুঃখজনক ঘটনা৷ বইমেলায় যাওয়াটা অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল৷ বাংলায় একটা কথা আছে তেরো পার্বণ৷ বইমেলা জুড়লে তা চৌদ্দ পার্বণ হয়৷ আমি মনে করি এবারের বইমেলা না হওয়াটা গিল্ডের গোর্য়াতুমি৷ কেননা এবারে যে স্থানটিকে তারা বেছে ছিল, সেখানে স্কুল রয়েছে, বাড়ি রয়েছে, হাসপাতাল রয়েছে তিন তিনটি৷ পার্ক সার্কাসের এই স্থলে বইমেলা হলে লোকচলাচলে অসুবিধা হত৷ সমস্যায় পড়তেন সেখানকার সাধারণ মানুষ৷ গিল্ডের উচিত ছিল এমন একটা জায়গা নির্বাচন করা যা বিতর্কহীন জায়গা৷ গিল্ড সদিচ্ছা দেখালে সবই সম্ভব হত৷ গিল্ড রাজ্য সরকার, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সমর্থন চাইতে পারত৷ কিন্তু একবছর ধরে সময় পেয়েও কিছুই করেনি গিল্ড৷ এটা আসলে চিন্তার অভাব, মানসিকতার অভাব৷ বইমেলা না হওয়াটা আমার কাছে খুবই বেদনাদায়ক৷

সৌমিত্র দস্তিদার( তথ্যচিত্র পরিচালক): আমি চাই ময়দানেই বইমেলা হোক৷ ওটাই ওর উপযুক্ত জায়গা৷ এবছর বইমেলা না হওয়াটা বাংলার সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বিরাট এক আঘাত৷ হাইকোর্টের রায়কে অশ্রদ্ধা না করে বলা যায় বইমেলা হোক সকল স্তরের মানুষের স্বার্থে৷ কেননা শুধু বইপ্রেমীরাই নন, বইমেলার সঙ্গে অনেক লোকের রুজিরুটির প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে৷ আঘাতটা তাদের উপরেও বর্তাবে৷

পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়( অভিনেতা): ভাবাই যায় না যে বইমেলা হবে না৷ ইটস অ্যা গ্রেট লস৷ আমার তো মনে হয় পুজোর পর সবথেকে বড় উত্সব হল বইমেলা৷ তারপর কিছুটা ভাগ বসিয়েছিল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল৷ কলকাতার মানুষ হিসাবে বলছি, বইমেলা কে এই ভাবে ভোলা যায় না৷ এই উত্সবকে এই ভাবে ঝেড়ে ফেলা যায় না৷ আমি খুব ভারি ভারি শব্দ ব্যবহার করা জানি না৷ কিন্তু একটা কথা বলাই যায়, কলতাতা বইমেলা কলকাতার একটা এসেন্স৷ সেই সুগন্ধটাই নষ্ট হয়ে গেল৷ কলকাতার মানুষ হিসাবে আমি দুঃখী৷










অস্বীকরণ